সুনামগঞ্জ , সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ , ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহার ইলিয়াস আলীর গুমের বিষয়ে জবানবন্দিতে যা বললেন সেনাসদস্য ইমরুল পাহাড়ি ঢলে জাফলংয়ে ভেসে গেছে দোকানপাট, সাদাপাথর বন্ধ ঘোষণা সংগীত উৎসবে মুগ্ধতা ছড়ালেন শিল্পীরা বিশ্বম্ভরপুরে চুরির অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর দাবি বাড়ছে নদ-নদীর পানি, পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহের অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ আমবাড়িতে ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন মাদক কারবারি সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে : ওসি রতন শেখ যাদুকাটা নদীতে ড্রেজার বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে জনসাধারণের ভূমিকা থাকতে হবে : এমপি কলিম উদ্দিন মিলন দোয়ারাবাজারে ‘স্কুল সেফটি মেলা’ অনুষ্ঠিত টাঙ্গুয়ার হাওর বাঁচানোর পরীক্ষাটা এখনই দিতে হবে সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদের নতুন কার্যকরী কমিটি গঠিত প্রিয়াছন্দ সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের যাত্রা শুরু দোয়ারাবাজারের বাজিতপুর গ্রাম কথিত পীরের আস্তানায় মাদকের আসর বিশ্বম্ভরপুরে মাদকবিরোধী র‌্যালি অনুষ্ঠিত তাহিরপুরে গাঁজাসহ আটক ১ ইয়াবার চালানসহ জুলাইযোদ্ধা হিমেল জনতার হাতে আটক
অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধ রেখে বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর দাবি

  • আপলোড সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৯:২৫:১৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৯:২৬:১২ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর দাবি
স্টাফ রিপোর্টার::
দ্বিতীয় দফায় একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের বন্ধ ঘোষণা দিয়ে হাসপাতাল চালুর দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। গত বছরের ১৫ এপ্রিল একই দাবিতে আন্দোলনে নামলে তাদেরকে চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় একই দাবিতে দ্বিতীয় দফা আন্দোলনে নেমে অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার সকাল থেকে তারা শ্রেণি কক্ষ থেকে বেরিয়ে ক্যাম্পাসে এসে হাসপাতাল চালুর দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত এবং দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২০-২০২১ শিক্ষা বছরে সুনামগঞ্জ সদরের মদনপুরে ‘সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ’ নামে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। ইউনূস সরকার এসে নাম পরিবর্তন করে ‘সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ’ করে। তবে কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম ও ক্লিনিক্যাল ওয়ার্ড ক্লাস শুরু না হওয়ায় বাস্তবিক জ্ঞান থেকে পিছিয়ে আছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। বর্তমানে কলেজটিতে ৬টি ব্যাচে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। তবে হাসপাতাল চালু না থাকায় প্রথম ব্যাচটিকে ওসমানী হাসপাতালে দুইদিন ইন্টার্নি ক্লাস করানো হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা জানান, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল হাসপাতাল চালু ও কলেজের শিক্ষক সংকট দূরীকরণের দাবিতে আন্দোলন নামেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও কলেজে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল সুবিধা না থাকায় হাতে কলমে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে আছেন তারা। এসব কারণে হাসপাতাল চালুর দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। টানা ক্লাস বর্জন করার খবর পেয়ে স্বাস্থ্যবিভাগের ডিজি, স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের ডিজি, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীনসহ একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দেন। এই আশ্বাসের ফলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আরো জানান, প্রতিশ্রুতির এক বছর পূরণ হওয়ার পথে। কিন্তু হাসপাতাল চালুর কোনও খবর নেই। শিক্ষক সংকট ও একাডেমিক সুযোগ সুবিধা সংকট দূর করার উদ্যোগ নেই। তাই বাধ্য হয়ে আবারও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে তারা রাজপথে দাবি আদায়ের জন্য নেমে এসেছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যবিভাগের সংশ্লিষ্টদের তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। বিক্ষোভ চলাকালে বক্তব্য দেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী পিয়াস চন্দ্র দাস, সাইদুল ইসলাম সাকিব, শাহপরান, কায়েস আব্দুল্লাহ জামাল, রাফাত রেজা আকাশ, ফারজানা আহমেদ মিম, তামিমা রহমান ও শামসিয়া তাব্বাসুম মাইশা। শিক্ষার্থীরা বলেন, মেডিকেল কলেজের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে হয়। এ জন্য তাদের ওয়ার্ডে গিয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা নিতে হয়। কিন্তু কলেজে হাসপাতাল চালু না হওয়ায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না। কলেজে হাসপাতালের ১০ তলা ভবন পড়ে আছে। গত বছরের জুনে হাসপাতালের কার্যক্রম চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো হাসপাতাল চালুর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাহপরান ভুঁইয়া বলেন, আমাদের এসব দাবির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট বক্তব্য না পেলে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি চলবে। ক্যাম্পাসে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ভবন নির্মাণকাজ শেষ, কিন্তু এটি চালুর বিষয়ে গড়িমসি লক্ষ করছি আমরা। অবিলম্বে হাসপাতাল চালু করতে হবে। এখানেই ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থী পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের মেডিকেলের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। নিজ ক্যাম্পাসের হাসপাতাল পাচ্ছিনা। হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ওয়ার্ড সুবিধা না থাকায় বাস্তাবিক জ্ঞান থেকে আমরা পিছিয়ে আছি। তবে এক বছরের মধ্যে মেডিকেল কলেজ চালুর আশ্বাস দিলেও এখন চালুর কোনও খবর নেই। তাই আমরা বাধ্য হয়ে আবার একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে রাজপথে নেমেছি। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আমরা ক্লাসে ফিরবনা। সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোস্তাক আহমদ ভূইয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা মেডিকেল হাসপাতাল চালু ও একাডেমিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য ক্লাস বর্জন রেখে আন্দোলন করছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারাও হাসপাতাল চালুর বিষয়ে আন্তরিক। শিক্ষকসংকটের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, এখানে ৭৪ শিক্ষকের মধ্যে ৩৮ জন কর্মরত আছেন। তিনটি বিভাগে কোনো শিক্ষক নেই। আমরা শিক্ষক নিয়োগের জন্য বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখছি। তারা আশ্বস্ত করেছে, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় দুই বছর পর ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। স্থায়ী ক্যাম্পাসটি জেলা শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার মদনপুর এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে অবস্থিত। বর্তমানে কলেজে পাঁচটি ব্যাচে শিক্ষার্থী রয়েছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর দাবি

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর দাবি